লঘু বস্তু

প্রত্যেক দিন ঊষা আসে উদিত সূর্যের লাল আভায় এবং রাত্রি হয় পূর্ণিমার চাঁদের আলোর মধ্য দিয়ে অমাবস্যার গভীর অন্ধকার দিয়ে। এই দুইই খুব মধুর আর খুব প্রিয়। খারাপ লাগে যখন অস্তগামী সূর্য পাঠে যায়। সেই গোধূলির লাল আলো ম্লান হয়ে নেমে আসে ঘন কালো রাত্রি। এর মধ্যে একটি ছোট সময় হল গোধূলি। এই ছোট্ট গোধূলিকে যদি বাদ দিয়ে দেওয়া হয় জীবন থেকে তাহলে বাকি সময়টা খুব মধুর আর মিষ্টি।

\"mukhar

ঠিক সেরকমই জীবনের অনেক ছোটো ঘটনা থাকে যেগুলোকে বাদ দিলে জীবন হয় সুন্দর সরল।আবার কখনও কখনও জীবন ও মন দুইই হয়ে যায় লঘু বস্তু, যা না থাকলেও হয়ত বাকি কিছুটা জগৎ হয় খুব সুন্দর। আর দূর থেকে সেই জীবন ও মন যখন দেখে সেই জগতটাকে তখন সেই জগতের সুন্দর রূপটি দেখে খুব আনন্দিত হয়। সেই জীবন- মন আজ স্তব্ধ হয়েছে। দেখতে চাইছে সেই সুন্দর জগৎ। জীবন মনের একদিকে একটি নারীরূপ ছোটো জগৎ আর অন্যদিকে এক পুরুষ ও পুরুষরূপ জগৎ। আজ সেখানে এই ছোট্টো একটি বস্ত হল এই জীবন-মন। জীবন-মন চলে গেলে বাকি জগতটা খুব সুন্দর। তাই জীবন-মন চলল দূর দেশে। প্রেম তার ঘরে এল না। প্রেম তার ঘরে এল সব জগতের একটা লঘু বস্তু হয়ে।

আজ সেই জীবন-মন ফেলে এসেছে তাঁর অতীত। মুছে দিয়েছে নিজের বর্তমান। ভবিষ্যৎ আর সে দেখে না। আজ সে চায় ছুটি নিতে, প্রাণ থেকে পালিয়ে বাঁচতে। এই ছোটো জিনিসটা আছে বলে সব দায় তার নিজের। তাকে সেই সব দায়ে কথা ঠেলে দিয়েছে। বলে দিয়েছে——

\”এই কী গো শেষ দান ?
বিরহ দিয়ে গেলে……
এই কী গো শেষ দান ?\”

এই বিরহ দান নিয়েই আজ সে পথ চলেছে। কিন্তু সে আর তৈরি হয় না। সে পথও আজ শেষ হতে চলেছে। সেই লঘু বস্তু যেতে চাইলেও কেউ ছাড়ে না তাকে। সবাই চায় সব কিছুর বোঝা লঘু বস্তুর ওপর চেপে রাখতে। তাই সমাজ তাকে ছেড়ে যেতে দেয় না, ধরে রাখে। আর সেই জীবন- মন বলে———

\”আমার যাবার সময় হল
আমায় কেন রাখিস ধরে।
চোখের জলের বাঁধন দিয়ে
বাঁধিস নে আর মায়ার ডোরে—–।\”

আজ তার জীবনের ছুটি ফুরিয়েছে। ফিরিয়ে নিয়েছে তার নয়ন দুটি সব কিছু থেকে। স্তব্ধ হল তার মন। ছুটি দাও আমাকে সকল মন।——–

আজ স্তব্ধ হয়েছে মন,
ছুটি চেয়েছে সেই স্তব্ধ মন।
ভুলেছে অতীত তার।
ভবিষ্যৎ নেই আর।
দেখতে চেয়েছে দূর থেকে সব।
ভালোবাসতে চেয়েছে দূর থেকে তাঁকে।
ভালোরাখতে চাইছে দূর থেকে তাঁকে।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *