রঙিন দিনের চিত্রপট

Syamaprasad college Geography department 2015-18 batch group photo

আজ এক ছোট্টো জীবনের অবসান করে এগিয়ে চলেছি সামনের দিকে। কলেজ জীবনের হাসি, ঠাট্টা, ভালোবাসা, বন্ধু বান্ধব এই সব কিছুর অবসান। চলতি জীবনের কিছু অংশ আমাদের জীবন থেকে ছুটি নিলেও থেকে যায় সেই স্মৃতিচারণ, সেই রঙিন দিনের চিত্রপট।

আজ কলেজের শেষ পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে সবার মুখ চিনে শেষ দেখে নেওয়ার পালা। জানি, আমি এদের মধ্যে সবাইকে মনে রাখলেও হয়ত আর কোনোদিন সেভাবে দেখা বা কথা হবে না। সবাই একদিন তাদের নিজের সংসার জীবনে চলে যায়। তখন কে কার কথা মনে রাখে ? তবে চিত্রপট তখন তার মজার জায়গায় বিরাজ করে। এরই মধ্যে এই তিনবছরের কলেজ জীবনে হারিয়েছিলাম প্রতিদিনের কলেজ যাওয়া, কলেজের প্রিয় শিক্ষক শিক্ষকাদের, কত অনার্স পড়া চেনা বন্ধু বান্ধব। যদিও তাদের সাথে দেখা, কথা হওয়া প্রায় হয় না। যারা ছিল, শুধু তাদের নিয়ে চলেছি। আজ সেই দিনের অবসান হল।

কবি, কলেজ থেকে পরীক্ষা শেষ করে বেড়নোর সময় তুমি বলেছিলে, \’কি করেছি আমাদের পড়াশুনা নিয়ে তা জানি না, তবে বেড়োনোর সময় এই মোটা পাগলীটাকে নিয়ে বেড়োচ্ছি।\’ শুনে খুব খুশি হয়েছি। কারণ জানি একসাথে বেড়োনোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের দুজনের যুগল চলনের কাছে পাওয়া এবং আরও বেশি সুখে থাকা। আমরা তো ছেড়ে চলে যাচ্ছি না। কিন্তু কি জান কবি, এই দীর্ঘ তিন বছরের জীবনে আমাদের যুগল চলনের কিছু স্মৃতিচারণের চিত্রপট হারিয়ে ফেললাম। জানি প্রতিটি মানুষের জীবন আবহমান গীতবিতানের মত। তাকে চলে যেতেই হয় সামনের দিকে এগিয়ে।

পরীক্ষা দিয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আজ প্ল্যান ছিল নন্দনে সিনেমা দেখার। সিনেমা \”ধারাস্নান\” দেখা হল। তবে আজ প্রথম সিনেমা হল এ তোমার হাসিটা আমাকে বারবার টানছিল তোমার ঠোঁটের কাছে। আজকের এত প্রফুল্ল হাসি এর আগে তোমার ওই চোখে আর ঠোঁটে কোনোদিন দেখিনি।

জীবনের এক ছোটো অংশের অবসানের জন্য একটু বিষাদে ছিলাম আমি। তুমি যখন নিয়েগিয়েছিলে মোহোর কুঞ্জে আর বসেছিলে সেই মাধবীলতা গাছটার কাছে তখন কেন জানি না মনে পড়ে গিয়েছিল এতদিনের চলে আসা সেই ধাবমান কাল। সেই আমাদের ভিট্টোরিয়ায় গাছের তলায় বসে মজা করা, ছেলেমানুষি করে ঘুরে বেড়ান, মোহোর কুঞ্জে তোমার সাথে দুষ্টুমি করা, তোমার লেখা সুন্দর কবিতাগুলো শোনানো, ঝগড়া, কত ভুল বোঝাবুঝি, কান্না, হাসি, শয়তানি, সেই মালা পড়ানোর দিন, কিছু বৃষ্টি ভেজা আমাদের দিন, সেই ছাতার তলায় বসে শয়তানি করা, দমদম স্টেশনে বসে সেই প্রথম আমার ঠোঁট স্পর্শ, কত গোপন ভালোবাসা এবং সম্মান, কিছু diary এর পাতার স্মৃতিচারণ এই সব কিছু মনে পরে যাচ্ছিল। আজ আমার চোখের জলের রাশির মধ্যে আর এই ছোটো জীবনের অংশের মধ্যে লুকিয়ে আছে আমাদের দুজনের প্রানের টান, সেই ভালোবাসার গতি, আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ, আমাদের একসাথে থাকার যুগল বন্দী হওয়ার সাত পাক, সানাই, চার হাত, সুখী সংসার এই সব কিছু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *